থ্যালাসেমিয়া কি?

থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রক্তস্বল্পতা জনিত রােগ। এই রােগে রক্তে অক্সিজেন পরিবহনকারী হিমােগ্লোবিন কণার উৎপাদনে ত্রুটি হয়। থ্যালাসেমিয়া বহনকারীরা সাধারণত রক্তে অক্সিজেন স্বল্পতা বা অ্যানিমিয়াতে ভুগে থাকেন। তাই প্রতি দুই থেকে চার সপ্তাহ পরপর তাদের নিয়মিত রক্ত নিতে হয়।থ্যালাসেমিয়া রােগীদের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ওষুধ এবং অন্যের কাছ থেকে তাজা রক্ত নিয়ে বেঁচে থাকতে হয়।

কেন হয় এই মরণব্যাধি থ্যালাসেমিয়া ?

অস্বাভাবিক হিমােগ্লোবিন জিনের কারণে থ্যালাসেমিয়া রােগ হয়। বাবা অথবা মা,
অথবা বাবা-মা উভয়েরই থ্যালাসেমিয়া জিন থাকলে বংশানুক্রমে এটি সন্তানের
মধ্যে ছড়ায়।

থ্যালাসেমিয়া প্রতিরােধে সন্ধানীর কার্যক্রম

মরণব্যাধি থ্যালাসেমিয়া প্রতিরােধে সন্ধানী আক্রান্ত রােগীদের নিম্নরূপ সহায়তা দিয়ে থাকেঃ
১. নিজস্ব ডােনার পুলের মাধ্যমে প্রতি মাসে এক ব্যাগ/ দুই ব্যাগ রক্ত বিনামূল্যে সরবরাহ সুনিশ্চিত করা।

২. আক্রান্ত রােগীদের বিনামূল্যে ঔষধপত্র সরবরাহ।

৩. ডাঃ নাঈমা আক্তার ব্লাড সাপোর্ট ফান্ড এর অধীনে প্রতিমাসে রক্ত পরিসঞ্চালনের জন্য বিনামূল্যে রক্তের ব্যাগ প্রদান।

৪. থ্যালাসেমিয়া বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে বিভিন্ন কর্মসূচি, যেমন: লিফলেট
বিতরণ, মেডিকেল ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি, সভা ও সেমিনার পরিচালনায় উদ্যোগ গ্রহণ করা।

৫. ২০১৯-২০ সেশনের গৃহীত প্রোজেক্টের অধীনে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের নিকটাত্মীয় এবং মেডিকেল ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে থ্যালাসেমিয়া ক্যারিয়ার শনাক্ত (HB Electrophoresis Test) করা হবে। ভবিষ্যতে থ্যালাসেমিয়া মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রোজেক্টটি কাজ করবে।

নিম্নোক্ত লক্ষণসমূহ একজন থ্যালাসেমিয়া রোগীর মাঝে দেখা যায়

 ১. রক্তে অতিরিক্ত আয়রণ,
২. অস্বাভাবিক অস্থি,
৩. প্লীহা বড় হয়ে যাওয়া,
৪. মুখমন্ডল ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া,
৫. শ্বাসকষ্ট,
৬. পেট বাইরের দিকে প্রসারিত হওয়া বা বৃদ্ধি পাওয়া,
৭. ত্বক হলদে হয়ে যাওয়া (জন্ডিস),
৮. ধীরগতিতে শারীরিক বৃদ্ধি,
৯. হৃদপিন্ডে সমস্যা।

থ্যালাসেমিয়া সচেতনতা কর্মসূচি

থ্যালাসেমিয়া নামক এই মরণব্যাধি প্রতিরােধে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রতিবছর ৮ই মে “বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস” হিসেবে পালন করা হয়। সম্প্রতি সরকার ২০২৮ সালের মধ্যে থ্যালাসেমিয়া মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

থ্যালাসেমিয়া নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরােধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক গৃহীত রােডম্যাপঃ

১০/০১/২০২০- চিকিৎসা সচেতনতা

১০/০১/২০২১-প্রাক বিবাহ থ্যালাসেমিয়া স্ক্রিনিং।

১০/০১/২০২২-গর্ভস্থ ভ্রণে থ্যালাসেমিয়া নির্ণয়

১০/০১/২০২৩- অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন বা জিন থেরাপী।

১০/০১/২০২৮-থ্যালাসেমিয়া মুক্ত বাংলাদেশ

থ্যালাসেমিয়ায় ঝরে না যাক আর একটি শিশুর প্রাণ।

আসুন, প্রাণঘাতি থ্যালাসেমিয়া প্রতিরােধে সচেতন হই।

Related posts

  • এ মুহুর্তে যথেষ্ট পরিমাণ রক্ত মজুদ আছে
  • সন্ধানী চমেক ইউনিটের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের যাত্রা শুরু
  • বার্ষিক প্রকাশনার জন্য লেখা আহবান করা হচ্ছে
  • এপ্রিলের ৩ তারিখ ভ্যাক্সিনেশন প্রোগ্রাম
toggle