আপনি জানেন কি?

♦ মুমূর্ষু একজন মানুষের জীবন ও মৃত্যুর সন্ধিক্ষন থেকে তাকে জীবনের আলোয় ফিরিয়ে নিয়ে আসতে কখনো কখনো এক ব্যাগ রক্তই দরকার হয়।
♦ দেশে বছরে ৮ থেকে ৯ লাখ ব্যাগ রক্তের চাহিদা থাকলেও সরকারি ও বেসরকারি ব্লাড ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৬ থেকে সাড়ে ৬ লাখ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করা হয়। এর বাইরে আরো ২ লাখ থেকে আড়াই লাখ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করে অবৈধ ব্লাড ব্যাংকগুলো, যেগুলোতে সাধারণত রক্ত কেনাবেচা হয়। আর রক্ত কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত পেশাদার রক্তদাতা ও অবৈধ ব্লাড ব্যাংক মালিকরা। আপনার - আমার স্বেচ্ছায় রক্তদানের ইচ্ছেটুকুই এইসব পেশাদার রক্তদাতার হাত থেকে বাঁচাতে পারে অসহায় রোগীদের।
♦ যেকোন সুস্থ ব্যক্তিই প্রতি ৪ মাস অন্তর রক্তদান করতে পারেন। সুস্থতা বলতে রক্তদাতার ওজন পুরুষের ক্ষেত্রে নূন্যতম ৪৭ কেজি এবং মহিলার ক্ষেত্রে ৪৫ কেজি, স্বাভাবিক রক্তচাপ (সিস্টোলিক ১০০ - ১৪০ মিমি. পারদচাপ এবং ডায়াস্টোলিক ৬০ - ৯০ মিমি. পারদচাপ), ৬ মাসের মধ্যে Jaundice, Malaria, Typhoid সহ বড় ধরনের কোন রোগ না থাকলে,১ বছরের মধ্যে বড় কোন অপারেশন না হয়ে থাকলে।
♦ "একব্যাগ রক্ত শুধু একব্যাগ রক্তই নয়,একটি জীবন"। শারীরিক কোনরকম ক্ষতির আশঙ্কা ছাড়াই আপনার দানকৃত একব্যাগ রক্ত বাঁচিয়ে তুলতে পারে একটি মূল্যবান প্রাণকে। শুধু দরকার আপনার একটিমাত্র সাহসী পদক্ষেপ।

কেন রক্তদান করবেন?

১. প্রথম এবং প্রধান কারণ,আপনার দানকৃত রক্ত একজন মানুষের জীবন বাঁচাবে।।
২. নিয়মিত রক্তদানে হৃদরােগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেক কম।
৩. নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে বিনা খরচে জানা যায় নিজের শরীরে বড় কোনাে রােগ আছে কিনা। যেমন : হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি,ম্যালেরিয়া, সিফিলিস, এইচআইভি (এইডস) ইত্যাদি।
৪. নিয়মিত রক্তদান করলে মানবদেহের ‘বােন ম্যারাে’ নতুন কণিকা তৈরির জন্য উদ্দীপ্ত হয়। রক্তদানের ২ সপ্তাহের মধ্যে নতুন রক্তকণিকা জন্ম হয়ে ঘাটতি পূরণ হয়ে যায়। আর বছরে ৩ বার রক্তদান আপনার শরীরে লােহিত কণিকাগুলাের প্রাণবন্ত করে তােলে ও নতুন কণিকা তৈরির হার বাড়িয়ে দেয়।
৫. নিয়মিত রক্তদান Hemochromatosis প্রতিরােধ
করে। শরীরে অতিরিক্ত আয়রনের উপস্থিতিকে Hemochromatosis বলে।
৬. রক্তে কোলেস্টেরলের উপস্থিতি কমাতে সাহায্য করে এ নিয়মিত রক্তদান।

রক্তদানের পূর্বে যেসব বিষয় জেনে রাখা জরুরীঃ

১. প্রতি চার মাস অন্তর রক্ত দেওয়া যায়।
২. ১৮ – ৫৭ বছর বয়সী যেকোন সুস্থ মানুষই রক্ত দিতে পারেন।
৩. রক্তদানের ক্ষেত্রে পুরুষের নুন্যতম ওজন ৪৭ কেজি এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ৪৫ কেজি।
৪. রক্তে হিমােগ্লোবিনের পরিমাণ, রক্তচাপ ও শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকতে হবে।
৬. শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত রােগ এ্যাজমা, হাপানি যাদের আছে তারা রক্ত দিতে পারবেন না।
৬. রক্তবাহিত জটিল রােগ যেমন-ম্যালেরিয়া, সিফিলিস, গনােরিয়া, হেপাটাইটিস ,এইডস, চর্মরােগ , হৃদরােগ, ডায়াবেটিস , টাইফয়েড এবং বাতজ্বর না থাকলে এবং ছয়
মাসের মধ্যে বড় ধরনের কোন অপারেশন না হয়ে থাকলে।
৭. আপনাকে চর্মরােগ মুক্ত হতে হবে।
৮. মহিলাদের মধ্যে যারা গর্ভবতী নন এবং যাদের মাসিক চলছেনা।
৯. এক সপ্তাহের মধ্যে কোন বিশেষ ধরনের ঔষধ ব্যবহার না করলে। যেমন- এ্যান্টিবায়ােটিক।।
১০ একমাসের মধ্যে যেকোন ধরনের ভ্যাক্সিন গ্রহন না করে থাকলে।

রক্তদান সম্পর্কিত কিছু ভুল ধারনাঃ

১. রক্তদানের পর স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যাবে – এটি ভুল ধারণা। আসলে রক্তদান করলে হৃদরােগের ঝুঁকি কমে এবং দেহে মাত্রাতিরিক্ত আয়রন বা লৌহ সঞ্চয় প্রতিরােধ করে।
২. রােযা রেখে রক্তদান করলে রোযার ক্ষতি হয় বলে অনেকে মনে করেন। কিন্তু ইসলামিক দৃষ্টিতে রােযা রেখে রক্তদানে কোন ধর্মীয় বাধা নেই।
৩. রক্তদানের পর আপনি কোনাে প্রকার অস্বস্তি বােধ করবেন না কিংবা অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাবেন না।
৪. রক্ত পরিসঞ্চালনের কারনে আপনি কোনপ্রকার রক্তবাহিত রােগের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হবেন না।কারণ রক্ত পরিসঞ্চালনের সরঞ্জামসমূহ একজন ব্যক্তির জন্য একবারই ব্যবহৃত হয়

আপনি কেন সন্ধানীতে রক্ত দিবেন?

১. সর্বোপরী চিকিৎসক ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রক্ত সংগৃহিত হয় বলে যেকোন সংক্রমন ও অনভিপ্রেত জটিলতা তাৎক্ষনিকভাবে প্রতিকার ও প্রতিরােধের ক্ষমতা একমাত্র সন্ধানীই রাখে।

২. সন্ধানীতে রক্ত দিলে সঙ্গে সঙ্গেই জানিয়ে দেওয়া হয় রক্তের গ্রুপ এবং প্রদান করা হয় ডোনার কার্ড যা পরবর্তীতে যে কোন ইউনিটে প্রদর্শনপূর্বক যেকোন সময় রােগী অথবা তার আত্মীয় এক ব্যাগ রক্ত বিনাশর্তে পেতে পারেন।

৩. সন্ধানীতে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি দ্বারা রােগীর রক্তে হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি,এইচআইভি,ম্যালেরিয়া ও সিফিলিসের জীবাণুর উপস্থিতি পরীক্ষা করে রক্তদাতাকে জানানাে হয়।

৪.এছাড়াও সন্ধানী প্রতি বছর নিয়মিত রক্তদাতাদের সম্মাননা প্রদান করে।বছরে যারা সন্ধানীতে সর্বোচ্চ তিনবার এবং সর্বমোট ১০/২০/৩০/৪০/বা তার বেশি বার রক্তদান করেন তাদেরকে দেয়া হয় সম্মাননা স্মারক ও সার্টিফিকেট

★★★আপনার প্রিয়জনের প্রয়োজনে আপনি নিজেই রক্ত দিন★★★

রক্তের প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ যোগাযোগ করুনঃ
সন্ধানী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ইউনিট
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, শহীদ মিনারের পেছনে
ফোন নং- ০৩১৬১৬৬২৫

রক্ত সরবরাহ পদ্ধতিঃ
১.বিনিময়ের মাধ্যমেঃ রোগীর আত্নীয়-স্বজন, বন্ধু বান্ধব যে কোন ব্যক্তির (যেকোন গ্রুপের) রক্তদানের বিনিময়ে কাংখিত গ্রুপের এক ব্যাগ রক্ত সরবরাহ করা হবে
২.সকল থ্যালাসেমিয়া রোগীকে বিনাশর্তে রক্ত সরবরাহ করা হবে
৩.সন্ধানীর ডোনার কার্ডধারী যেকোন ব্যক্তিকে বিনাশর্তে এক ব্যাগ রক্ত সরবরাহ করা হবে

Related posts

  • এ মুহুর্তে যথেষ্ট পরিমাণ রক্ত মজুদ আছে
  • সন্ধানী চমেক ইউনিটের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের যাত্রা শুরু
  • বার্ষিক প্রকাশনার জন্য লেখা আহবান করা হচ্ছে
  • এপ্রিলের ৩ তারিখ ভ্যাক্সিনেশন প্রোগ্রাম
toggle