আমাদের কথা

১৯৭৭ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষ (নতুন) এর ই ব্যাচের ছয়জন ছাত্র মোস্তাফিজুর রহমান স্বপন, মোশাররফ হোসেন মুক্ত, মোঃ ইদ্রিস আলী মঞ্জু, মোঃ আব্দুল কাইয়ুম, মোস্তফা সেলিমুল হাসনাইন ও খুরশীদ আহমেদ অপু কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান সন্ধানী পরবর্তীতে কালের আবর্তনে সময়ের সাথে সাথে স্বীয় কর্মকান্ডের মাধ্যমে সেবা পরিমন্ডলের সুপরিচিত বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়। সন্ধানী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ইউনিটের যাত্রা শুরু হয় ১৯৮২ সালের শেষের দিকে। নভেম্বর মাসের ২৬ তারিখে সন্ধানী ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে আসা ডাঃ শহীদুল্লাহ, ডাঃ আলতাফ ও ডাঃ আজাদ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের প্রধান পুরুষ ছাত্রাবাসের ৩২/সি (ডাঃ মুকিত শফিউল আলম টুকু এর রুম)-এ ডাঃ মুকিত শফিউল আলম টুকু, ডাঃ তোসাদ্দেক হোসেন সিদ্দিকী জামাল, ডাঃ রিন্টু, ডাঃ নিয়ামুল, ডাঃ এনাম, ডাঃ সব্বির, ডাঃ সাখাওয়াৎ, ডাঃ ওবায়েদ, ডাঃ সালাম প্রমূখের সাথে সন্ধানীর কার্যক্রম আলোচনা করেন। কলেজে সন্ধানীর ইউনিট গঠনের ব্যাপারে সবাই একমত হন। ডাঃ মুকিত শফিউল  আলম টুকু এবং আরো কয়েকজন উদ্যমী তরুণের আগ্রহে ডাঃ তোসাদ্দেক হোসেন সিদ্দিকী জামালকে আহবায়ক করে একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এবং এই কমিটি পরবর্তীতে একটি পূর্ণাঙ্গ কার্যকরী কমিটি গঠন করে। 


সন্ধানী চ.মে.ক  ইউনিটের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক  উদ্বোধন হয় ১৯৮২ সালের ২রা ডিসেম্বর স্বেচ্ছায় রক্তদান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যেখানে শিরিনাজ বেগম স্বাতী প্রথম রক্তদান করেন। ১৯৮৫ সালে হাসপাতালের তৎকালীন পরিচালক কর্নেল মোঃ মহসীন সন্ধানীকে একটি রুম, কিছু চেয়ার টেবিল ও ঔষধ রাখার জন্য একটি বড় আলমারী দান করেন। পরবর্তীতে কাজের পরিধির বিস্তৃতির সাথে সাথে সন্ধানীর অফিস রুমেরও বিস্তৃতি ঘটেছে। সন্ধানী চমেক ইউনিট সমাজকল্যান পরিদপ্তরের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করে ১৯৮৬ সালের ২রা ডিসেম্বর (রেজি: নং চট্ট১২৪৮/৮৬)। 

সংগঠনটির আর্থিক সংকট নিরসনে প্রথম যারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তারা হলেন হাসপাতালের সামনের দোকানগুলোর মালিক সমিতি। সন্ধানীর নিজস্ব তহবিল গঠনের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। ১৯৮৮-৮৯ কার্যবর্ষে তিন দিন ব্যাপী “তোমরাই” নাটক মঞ্চায়ন, ১৯৯০-৯১ কার্যবর্ষে জুয়েল আইচের যাদু প্রদর্শনীর আয়োজন এই কার্যক্রমের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। 


সন্ধানী কার্যক্রম শুধু অফিস কেন্দ্রিক না করে চারদিকে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়াস চালানো হয় ১৯৮৯-৯০ কার্যবর্ষে। এই কার্যবর্ষে মহেশখালী দ্বীপে দুই দিন ব্যাপী স্বেচ্ছায় রক্তদান, উদ্বুদ্ধকরন ও জনস্বাস্থ্য সচেতনতামূলক প্রচারনা চালানো হয়। একই বছর মাইজদী, ফেনী, ছাগলনাইয়া, কক্সবাজার, বোয়ালখালী ও সীতাকুন্ডে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। পরের বছরই প্রথম বিজয় মেলায় উম্মুক্ত স্বেচ্ছায় রক্তদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

মানবতার সেবায় নিবেদিত প্রাণ সন্ধানীর কর্মীরা শুধু মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করেই ক্ষান্ত হয়নি। প্রয়োজনে তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। ৪র্থ বর্ষের মেডিকেল ছাত্র শহীদ মাহমুদ মুন্নার চিকিৎসা বাবদ এক লক্ষেরও অধিক টাকা সংগ্রহ করে তার পরিবারকে প্রদান করে। একই ভাবে সাহায্য করেছে আবু ওসমানীর পরিবারকেও। ৯১-এর ভয়াল ঘুর্ণিঝড়ে দুর্গত এলাকায় প্রেরিত মেডিকেল টিম দীর্ঘ একমাস তাদের কার্যক্রম চালু রেখেছিল। শুধু নিকটবর্তী জায়গাগুলোতে নয় এই কার্যক্রম সন্দ্বীপ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। জাপানস্থ ডাঃ হাসিনা প্রজেক্টের সহায়তায় ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সময়ে বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহের জন্য চকোরিয়ায় ৩১টি টিউবয়েল বিতরণ করা হয়। এছাড়া ঘুর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত চকোরিয়ার মেহের নামা হাইস্কুল পুনঃনির্মান এবং হারবাং-এ আরো একটি নতুন স্কুল স্থাপন করা হয়। এভাবে সন্ধানী পৌঁছে গেছে মানুষের খুব কাছে। 


১৯৯২-৯৩ কার্যবর্ষে অর্থের অভাবে যাদের লেখাপড়া সম্ভব হয়ে উঠে না, সেইসব অঙ্কুরে বিনষ্ট হয়ে যাওয়া কুঁড়িদের আবার নতুন করে বিকশিত হবার সুযোগ করে দিয়েছে ‘আশিনাগা ওবাসান’ ও ‘শিনসু সন্ধানী’ প্রকল্পের আওতায় বৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে। এই প্রকল্পের জন্য সন্ধানী প্রথমতঃ ডাঃ কাজুইউকি ফুনাৎসু ও দ্বিতীয়তঃ মিসেস মিৎসুকো হরিউচির নিকট কৃতজ্ঞ। 


১৯৮৯ সালে শ্রীলংকার মরণোত্তর চক্ষুদান আন্দোলনের সফল পথ প্রদর্শক ডাঃ হাডসন সিলভার বাংলাদেশে আগমনের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রামেও সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতি গঠিত হয়। 


১৯৯৪-৯৫ কার্যবর্ষে সন্ধানী চ.মে.ক. এর জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটে। এই বছর সন্ধানীতে ইনার হুইল ক্লাবের সহযোগিতায় প্রথম স্ক্রিনিং সিস্টেমের প্রচলন করা হয়। একই বছর সন্ধানীর সংগ্রহে সংযুক্ত হয় একটি কম্পিউটার। ১৯৯৬-৯৭ কার্যবর্ষে সন্ধানী ৪৫০ জনকে হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিন প্রদানের মাধ্যমে শুরু করে স্বল্পমূল্যে নিয়মিত হেপাটাইটিস বি ভ্যাক্সিনেশন কর্মসূচী। সন্ধানীর সংগৃহীত রক্ত সংরক্ষণের জন্য ১৯৯৯-২০০০ কার্যবর্ষে একটি ব্লাড ব্যাঙ্ক রেফ্রিজারেটর ক্রয় করা হয়। ২০০৬-০৭ কার্যবর্ষে চালু হয় ELISA মেশিনের মাধ্যমে স্বয়ংসম্পূর্ণ স্ক্রিনিং সিস্টেম। ২০০৭ এর ৭ই ডিসেম্বর সন্ধানী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ইউনিট পালন করে তার গৌরবময় মানবসেবার রজতজয়ন্তী। ২০০৯ সালে সন্ধানী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ইউনিট সফলতার সাথে আয়োজন করে ২৮তম কেন্দ্রীয় বার্ষিক সম্মেলন। 

Related posts

  • এ মুহুর্তে যথেষ্ট পরিমাণ রক্ত মজুদ আছে
  • সন্ধানী চমেক ইউনিটের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের যাত্রা শুরু
  • বার্ষিক প্রকাশনার জন্য লেখা আহবান করা হচ্ছে
  • এপ্রিলের ৩ তারিখ ভ্যাক্সিনেশন প্রোগ্রাম
toggle